Header Ads

নিঃস্বার্থ কাজের জন্য জাতীয় পুরস্কার


 নিঃস্বার্থ কাজের জন্য জাতীয় পুরস্কার; ১৭ নভেম্বর ২০১৯; উত্তরবঙ্গ সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত
নাগরাকাটা, ১৬ নভেম্বর : ডুয়ার্সের চা বাগান ও গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও পরিবেশ সচেতনতার জন্য কাজ করে চলেছেন বানারহাটের চিকিৎসক পার্থপ্রতিম। এনসেফ্যালাইটিস- ডেঙ্গু নিয়ে স্থানীয়দের বোঝাতে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি প্রান্তিক বনবস্তিগুলিতে ঘোরেন। নিজের হাতে তৈরি চার্ট, মডেল নিয়ে গ্রামের মানুষকে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব বোঝান। পার্থপ্রতিমের এতদিনের পরিশ্রম এবার স্বীকৃতি পেল রাজধানীতে। দিল্লি ও পার্শ্ববতী এলাকার কয়েকটি জাতীয় স্তরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ মঞ্চের তরফে পার্থপ্রতিমকে ডঃ এ পি জে আবদুল কালাম পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। আগামী ২২ নভেম্বর তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। এজন্য শনিবার ই-মেল মারফত আমন্ত্রণপত্রও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই চিকিৎসককে। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবের স্পিকার হলে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। পুরস্কার পাওয়ার খবরে খুশি পার্থপ্রতিম। তিনি বলেন, "যেকোনো পুরস্কারই দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। এটা শুধু আমার নয়, গোটা ডুয়ার্সের সম্মান।"
প্রতি বছর বিভিন্ন পেশায় যুক্ত থেকেও যাঁরা সমাজসেবার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী কাজ করে চলেছেন তাঁদের এই পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়া হয়। কত মানুষ তাঁর কাজের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন, তাও বিবেচনা করা হয়। ডাঃ পার্থপ্রতিম দীর্ঘদিন ধরেই সেই কাজ করে চলেছেন। তাঁর পুরস্কার পাওয়ার খবরে খুশি সকলেই । আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বারলা বলেন, "ডুয়ার্স বিজ্ঞান, পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সেই অবস্থা বদলাতে পার্থপ্রতিমবাবু যে কাজ করে চলেছেন, তার জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।" চা বাগান বিশেষজ্ঞ রামঅবতার শর্মার কথায়, "ওঁকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে স্বাস্থ্য- বিজ্ঞানে সচেতনতার পাঠ এভাবে দিতে আর কাউকে দেখিনি।"
এর আগেও পার্থপ্রতিম তাঁর কাজের জন্য একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন। ঝুলিতে রয়েছে জাতীয় বিজ্ঞান দিবস পুরস্কার, সেলাম বেঙ্গল, বিজ্ঞান সচেতনতা বর্ষ স্মারক ইত্যাদি। ছাত্রজীবনে গ্রামের উপযোগী প্রযুক্তি আবিষ্কার করে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকেও প্রশংসিত হয়েছিলেন। লিখেছেন স্বাস্থ্যবিষয়ক বেশ কয়েকটি বই।


No comments

Powered by Blogger.