হাসপাতাল থেকে উপহার
হাসপাতাল থেকে উপহার - ডাঃ পার্থপ্রতিম; ১৭ জুন ২০০৬; উত্তরবঙ্গ সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত
হাসপাতালে, নার্সিংহোমে যখন চিকিৎসা চলে, তখন আমেরিকার মতো দেশেই বছরে ২০ লাখ মানুষ, সংশ্লিষ্ঠ শুশ্রুষাকেন্দ্র থেকে সংক্রামণঘটিত ব্যাধি উপহার পান। এঁদের মধ্যে নব্বই হাজার সেই রোগে ভুগে মারা যান। আর আমাদের দেশে হাসপাতালে বা নার্সিংহোমে থাকাদের মধ্যে এই ধরনের সংক্রমণ ঘটে ২৫ শতাংশেরও বেশি মানুষের ক্ষেত্রে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বেশিরভাগ উন্নত দেশে এই হসপিটাল অ্যাক্যোআইয়ারড ইনফেকশন-এর হার ৫ থেকে ১০ শতাংশ। উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এই ধরনের সংক্রামণের হার পঁচিশ শতাংশেরও বেশি। ব্রেকটার ইন্ডিয়ার ক্লিনিক্যাল স্পেশলিস্ট ডা.বিক্রম সিং জানাচ্ছেন, আমাদের দেশের আই সি ইউ-তে এ ধরনের সংক্রামণ ঘটনার জেরে ৪৪ শতাংশ রোগীর মৃত্যু হয়।
বাটরা হসপিটালের অ্যানাসথেসিয়া অ্যান্ড ইনফেকশন কনট্রোল বিভাগের প্রধান ড. পবন গুরহা জানাচ্ছেন, এই ধরনের সংক্রমণ ঘটে, হাসপাতালে বা নার্সিংহোমে ভর্তি হওয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে। দেশের সেরা হাসপাতালগুলিতে এই ধরনের সংক্রমণঘটিত ব্যামো হয় ১০ শতাংশের। আমেরিকায় এ ধরনের সংক্রমণকে সুপারবাগদের কীর্তি বলা হয়। বাগ হল ছারপোকা, তা থেকে সুপারবাগ। দশকের পর দশক ধরে অতি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের দরুন এই সব সুপারবাগ তৈরী হয়েছে। বাড়াবাড়ি হারে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করায় নতুন নতুন প্রজাতির ভাইরাস এবং ব্যাকটিরিয়া তৈরী হয়েছে, এরাই যত অসুখ বাঁধাচ্ছে, কারণ ওষুধ এদের শায়েস্তা করতে পারছে না। যাঁরা গুরুতর অসুস্থ, যাঁদের প্রতিরোধী শক্তি কমে এসেছে, তাঁদেরই এইসব ভাইরাস, ব্যাকটিরিয়া আক্রমণ করে বেশি। ডায়াবেটিস, ক্যানসার এবং কিডনি বা অন্য কোনো অঙ্গ প্রতিস্থাপন হচ্ছে যাঁদের, তাঁরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।



No comments