সুন্দরী চামুর্চিতে পর্যটনের সম্ভাবনা
সুন্দরী চামুর্চিতে পর্যটনের সম্ভাবনা; -ডাঃ পার্থপ্রতিম। সোমবার ২৫ আগস্ট ২০১৪; আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত
শিলিগুড়ি জংশন থেকে আসা ট্রেনে চা-বাগানের কোলে ছোট্ট সুন্দর বানারহাট রেল
স্টেশন। ৯ কিলোমিটার দূরে সীমান্ত গ্রাম চামুর্চি। সেখান থেকে হাঁটাপথে
পাহাড়ি পাকদন্ডী ধরে পৌঁছে যাওয়া যায় মহাকাল শিবমন্দিরে। ট্রেকারদের জন্য এ
পথ তো তাদের কাছে স্বর্গরাজ্য। প্রকৃতির অদ্ভুত খেয়ালে পাহাড়ের গুহার
ভেতরে নেমে এসেছে পাথরের তৈরি লম্বা লম্বা শিবের জটা। পৃথিবীর যে সব অঞ্চলে
এমন গুহা রয়েছে তার অনেকটাই চলে এসেছে পর্যটন মানচিত্রে। অন্ধপ্রদেশের
ভাইজাগের কাছে ‘বোড়াকেভ’কে ঘিরে বহু টাকার ব্যবসা চলে। যদি ভুটান সরকারে
সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এখানে রোপওয়ে তৈরি করা যায়, উন্নত করা যায় পথঘাট, তবে
পিলগ্রিম ট্যুরিজমের সম্ভাবনা রয়েছে। বানারহাটকে খুঁটি করে ঘুরে আসা যায়
ডায়না ও রেতি ফরেস্ট এলাকায়। ডায়না নদীর তীর ধরে উত্তরে হেঁটে যাওয়া আর
দূরে তাকিয়ে থাকা।
তেলিপাড়া চা কারখানার কাছেই ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা প্রস্রবণ তৈরি
করেছে আংরাভাসা নদী। ছোট্ট একটু জায়গায় বাঁধ দিলে এখানে সুন্দর বড়সড় জলাশয়
তৈরি হতে পারে। হতে পারে বোটিং, জলবিহার, মৎসচাষ। বিভিন্ন চা-বাগিচার
অব্যহৃত জমিগুলিতে গড়ে উঠতে পারে আরও কিছু। বানারহাটে পাওয়া যাবে সাঁওতাল,
মুন্ডা, ওরাঁও, মহালি, বরাইক, হো, অসুর, রাভা, মেচ প্রভৃতি আদিবাসী
জনগোষ্ঠীর এক মিশ্র সংস্কৃতি। পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনা
বাস্তবায়িত করতে ডায়না এবং রেতি ফরেস্টে ট্যুরিস্টদের থাকার ব্যবস্থা গড়ে
তুলতে হবে। দরকার কন্ডাক্টেড ট্যুর, ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা, চামুর্চি থেকে
মহাকাল পর্যন্ত গাড়ি চলাচলের রাস্তা। উদ্যোগী হতে হবে বর্তমান সরকারকে।
-ডাঃ পার্থপ্রতিম।
No comments