বিপন্ন আবহাওয়াবিদ
বিপন্ন আবহাওয়াবিদ; ডাঃ পার্থপ্রতিম। ৭ ম বর্ষ ২৪৬ সংখ্যা মঙ্গলবার ২৭ শ্রাবণ ১৩৯৮; বর্তমান পত্রিকায় প্রকাশিত
ব্যাঙ ডাকলে বৃষ্টি হবে, একথা মা-ঠাকুরমারাও জানতেন। আসলে আবহাওয়ার বড় রকমের পরিবর্তনের খবর বেশ কয়েকটি নিম্নশ্রেণীর প্রাণীরা যে আগেই বুঝতে পারে এ সংবাদ নতুন নয়। যেমন বন্যা বা অতিবৃষ্টি হওয়ার আগে পিঁপড়েরা দল বেধে ডিম ও খাবার নিয়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেয়। ভূমিকম্পের আগে হাঁস মুরগি ছটফট শুরু করে। কিন্তু এদের সবার চেয়ে এগিয়ে আছে ব্যাঙেরা। ফ্রান্সের ছোট্ট শহর লা-পোর্টাল এ গড়ে উঠেছে এক নতুন ধরনের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। ব্যারোমিটার, ম্যাক্স-মিন থার্মোমিটার ছাড়াও সেখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি ব্যাঙ। যারা আবহাওয়া পরিবর্তনের খবর আগেভাগেই জানিয়ে দেয়। সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতিও এদের মতো নিখুঁত পূর্বাভাস দিতে পারে না।
এসবের পিছনে রয়েছে কতগুলি সুনির্দিষ্ট কারণ। ব্যাঙ ও অন্যসব অ্যামফিবিয়া বা উভচরেরা প্রকৃতির আদিমসৃষ্টি। জীবাশ্ম থেকে জানা যায়- এরা পৃথিবীতে এসেছিল ষোলো কোটি বছর আগে। দীর্ঘকাল এই ধরার বুকে টিকে থাকার ফলে এরা বংশানুক্রমিকভাবে লাভ করেছে বিশাল অভিজ্ঞতা। ব্যাঙ গায়ের চামড়া দিয়ে জলপান করে, মাঝেমধ্যে শ্বাসকার্যও চালায়। বায়ুতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাব হলে ত্বকের সাহায্যে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন অভিস্রবণ পদ্ধতিতে গ্রহণ করে। জলে ও ডাঙায় অবাধ চলাফেরার ফলে জল ও বায়ুদূষণ মাত্রার সামান্য পরিবর্তন হলেও সহজেই বুঝতে পারে।
বর্তমানে ব্যাঙের সংখ্যা অস্বাভাবিক রকম কমে এসেছে। আমেরিকার দ্বিমাসিক পত্রিকা ‘ইন্টারন্যাশনাল ওয়াইল্ড লাইফ’ জানিয়েছে যে- বিশ্বের ১৬ টি দেশে ব্যাঙেরা অস্তিত্ব সংকটের মুখে। কোস্টারিকা থেকে কানাডা ও ব্রাজিল থেকে অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বহু প্রজাতির ব্যাঙ লুপ্তপ্রায় প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। কোস্টারিকার মন্টিভারডি রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে বিলুপ্ত হতে বসেছে বিরল প্রজাতির সোনালি ব্যাঙ। ১৯৮০ সালে প্রজনন ঋতুতে যে জলাশয়ের আশেপাশে ১০০ টি সোনালি ব্যাঙ দেখা যেত ১৯৮৯ সালে সেখানে একটিও চোখে পড়া ভাগ্যের ব্যাপার।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সে’র গবেষকরা এজন্য জলাভূমি ও বিশেষত বৃষ্টিপ্রধান রেনফরেস্টের বিনাশকে দায়ী করেছে। তাছাড়া এদের সংখ্যা কমে যাওয়ার আর একটি কারণ হল- ব্যাঙ প্রধানত পোকা-মাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে। কিন্তু শস্যক্ষেতে ব্যাপকভাবে কীটনাশকের ছড়ানোর ফলে পতঙ্গের সাথে এরাও দলে দলে মারা যাচ্ছে। ব্যাঙের পা দিয়ে তৈরি খাবার জাপান ও ইউরোপের কয়েকটি অঞ্চলের মানুষের বড় প্রিয়। আমাদের দেশে ব্যাঙ শিকার নিষিদ্ধ হলেও এখনও চোরাইপথে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে অনেক সংখ্যক ব্যাঙ বিদেশে রপ্তানি হয়।



No comments